Why are you facing so much trouble in freelancing?

Why are you facing so much trouble in freelancing?

ফ্রিল্যান্সিং করতে গিয়ে আমরা সবাই নানান ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়ি। সঠিক সময়ে এসব সমস্যা সমাধান করতে না পারলে ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে নেমে আসে ধস। ফ্রিল্যান্সিং করার সময় এসব সমস্যা এড়িয়ে চলা জরুরী। তাই আমাদের জানতে হবে “কেন আমি এসব সমস্যায় পড়ছি?”

আজকের লেখাটি তে বলবো কেন আমরা ফ্রিল্যান্সিং করার সময় বিভিন্ন সমস্যায় পড়ি । তাই আর দেরি না করে শুরু করি। পূরো লেখাটি পড়ে আশা করি উপকৃত হবেন।

১) ফ্রিল্যান্সিং এ লক্ষ্য ঠিক নেই

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য লক্ষ্য ঠিক রাখা প্রথম এবং প্রধান কাজ। আপনি কি কাজ করবেন, কতক্ষন করবেন ইত্যাদি লক্ষ্য ঠিক না করলে আপনি বেশি দূর যেতে পারবেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় ফ্রিল্যান্সাররা তাদের লক্ষ্য ঠিক রাখেন না বা কোন লক্ষ্য ঠিক না করেই ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন এবং বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। যা ফ্রিল্যান্সারের কাজের গতি কমিয়ে দেয় এবং তারা হতাশা হয়ে যান।

আপনি কেন ফ্রিল্যান্সিং করবেন? ফ্রিল্যান্সিং কে কি ক্যারিয়ার হিসেবে নিবেন নাকি পার্ট টাইম হিসেবে কাজ করবেন, কতক্ষন কাজ করবেন এবং কত উপার্জন করবেন তা আপনাকে ঠিক করে নিতে হবে। আপনি কোথায় যাবেন সেটা যদি আপনি না জানেন তাহলে আপনি কোনদিন আপনার লক্ষ্যে পৌছতে পারবেন না বরং বিভিন্ন সমস্যায় পড়বেন।

২) মার্কেটপ্লেসের বাইরে শক্ত প্লাটফর্ম তৈরি না করা

মার্কেটপ্লেস হচ্ছে একটি তৃতীয়পক্ষ বা প্ল্যাটফর্ম যেখানে ক্লায়েন্ট এবং ফ্রিল্যান্সারের যোগাযোগ হয়। মার্কেটপ্লেসের মালিক  প্রতিটি সার্ভিসের পেমেন্টের একটি অংশ চার্জ হিসেবে নেয়। বাংলাদেশের প্রায় সব ফ্রিল্যান্সার তাদের প্রথম কাজ পেয়ে থাকেন বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে। এবং অনেকেই শুরু মার্কেটপ্লেসের ক্লায়েন্টদের কাজ করে থাকেন।

কিন্তু মার্কেটপ্লেসে অনেক সময় ক্লায়েন্ট পাওয়া যায় না বা মার্কেটপ্লেসের একাউন্ট ব্লক হয়ে গেলে ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগের পথ বন্ধ হয়ে যায়। তখন আবার নতুন করে মার্কেটপ্লেসে ক্লায়েন্ট পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। তাই মার্কেটপ্লেসের সাথে সাথে মার্কেটপ্লেসের বাইরেও নিজের শক্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে। মার্কেটপ্লেসের বাইরের ক্লায়েন্টদের সার্ভিস দিতে হবে।

৩) ফ্রিল্যান্সিং একা একা না করে টিম নিয়ে কাজ করার মন মানসিকতা

ফ্রিল্যান্সিং একটি বিজনেস। একা একা ফ্রিল্যান্সিং করা যায় কিন্তু ক্লায়েন্টদের কাজের পরিমাণ বেড়ে গেলে তখন একা কাজ করতে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়। সময় মত ক্লায়েন্টদের কাজ ডেলিভারি দিতে না পারা, কোন প্রয়োজনে ক্লায়েন্টদের সাথে সঠিক সময় যোগাযোগ করতে না পারা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয় এর ফলে ক্লায়েন্ট অসন্তুষ্ট হতে পারেন।

কিছু অভিজ্ঞ, দক্ষ এবং টীমে কাজ করতে আগ্রহীদের নিয়ে টীম বানিয়ে খুব সহজেই এই সমস্যার থেক মুক্তি পাওয়া যায়। টীমের সবাই মিলে কাজ করলে কাজ সহজ হয়ে যায়, কাজের মান ভাল হয় এবং ক্লায়েন্টদের কাজ সময় মত ডেলিভারি দিয়ে ক্লায়েন্টদের সন্তুষ্ট করে তাদের কাছ থেকে পুনরায় কাজ পাওয়া যায়।

৪) আয় এবং ব্যয় এর হিসেব না করা

ফ্রিল্যান্সাররা ফ্রিল্যান্সিং এ কাজের দক্ষতা, ক্লায়েন্টদের সাথে যোগাযোগ ও নিজের সার্ভিস উন্নয়নের মাধ্যমে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি উপার্জন করেন। উপার্জনের অর্থ অনেক সময় আমরা বিভিন্নভাবে খরচ করি। সচেতন হয়ে উপার্জনের কিছু কিছু এমাউন্ট প্রতি মাসে ব্যাংকে জমা রাখা প্রয়োজন। 

ফ্রিল্যান্সিং বা অন্য যেকোন পেশায় ভালো এবং খারাপ সময় আসে। কখনো মাসে ১০০০ ডলার বা তার বেশি উপার্জন করবেন আবার আরেক মাসে ১০০ ডলারও উপার্জন না হতে পারে। তাই ফ্রিল্যান্সারদের উচিত তাদের আয় ব্যয়ের হিসাব রাখা এবং খারাপ সময়ের জন্য কিছু কিছু টাকা ব্যাংকে সেভ করে রাখা। অনেক সময় আয় বুঝে ব্যয় না করায় এবং আয় ব্যয়ের হিসাব না রাখায় ফ্রিল্যান্সিং ছেড়ে দিতে হতে পারে।

৫) রিপিটিং ক্লায়েন্ট তৈরি না করা

মার্কেটপ্লেসে বা মার্কেটপ্লেসের বাইরে যারা ফ্রিল্যান্সারদের কাছ থেকে সার্ভিস নেন তারাই ক্লায়েন্ট। একজন ক্লায়েন্ট যখন একবার আপনার কাছ থেকে সার্ভিস নিয়ে পরবর্তীতে আবার আপনার কাছ থেকে সার্ভিস নেন তাদের রিপিটিং ক্লায়েন্ট বলে। নিয়মিত ফ্রিল্যান্সিং করলেও অনেক সময় ফ্রিল্যান্সাররা রিপিটিং ক্লায়েন্ট তৈরি করেন না, যা পরবর্তীতে তাদের সমস্যায় ফেলে।

রিপিটিং ক্লায়েন্ট তৈরি করা ফ্রিল্যান্সারের সফলতার একটি ভাল উপায়। আপনি যখন একজন ক্লায়েন্টের কাজ করবেন এবং ক্লায়েন্ট আবার আপনার কাছ থেকে সার্ভিস নেন তখন পূর্বের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝবেন কিভাবে ক্লায়েন্টকে সন্তুষ্ট করা যায়। রিপিটিং ক্লায়েন্ট আপনাকে সময়মত পেমেন্ট করে দেন, তার সার্ভিস নেয়ার প্রয়োজন হলে সে আপনার কাছেই আসবে। ক্লায়েন্ট এবং ফ্রিল্যান্সারের মধ্যে ভাল আন্ডারস্ট্যান্টিং তৈরি হয় যা ফ্রিল্যান্সাকে অনেক সুবিধা দেয়। তাই ফ্রিল্যান্সিং করে সফল হতে রিপিটিং ক্লায়েন্ট তৈরি করা খুব জরুরী।

৬) যেকোনো ক্লায়েন্ট দেখলেই কাজ শুরু করে দেওয়া

যারা ফ্রিল্যান্সারদের থেকে সার্ভিস নেন তারাই ক্লায়েন্ট। মার্কেটপ্লেসে হাজার হাজার ক্লায়েন্ট আছে। যারা ফ্রিল্যান্সারদের থেকে সার্ভিস নিচ্ছেন প্রতিদিন। কিন্তু বিভিন্ন সময় ক্লায়েন্টরা নানা ধরনের সমস্যা করেন। 

অনেক সময় কাজ পেলেই ফ্রিল্যান্সাররা কোন কিছু বিবেচনা না ক্লায়েন্টদের কাজ শুরু করেন এবং মাঝ পথে ক্লায়েন্ট তার মত পরিবর্তন করেন যে তিনি আপনার কাছ থেকে কাজ করাবেন না। অনেক সময় কাজ বুঝে নেয়ার পর ক্লায়েন্ট পেমেন্ট করেন না, কাজ ঠিকঠাক হলেও ক্লায়েন্টকে খারাপ রেটিং দেন এছাড়াও বিভিন্ন ঝামেলা করেন। তাই ক্লায়েন্টের কাজ শুরু করার আগে ক্লায়েন্ট সম্পর্কে ভালভাবে জানতে হবে। মার্কেটপ্লেসে কাজ সম্পূর্ন করার পর ক্লায়েন্টের মতই ফ্রিল্যান্সারও ক্লায়েন্টকে রেটিং দিতে পারেন। এবং বিভিন্ন কমেন্ট করতে পারেন। তাই কাজ শুরুর আগে ক্লায়েন্টের রেটিং এবং পূর্বে ফ্রিল্যান্সারদের নেয়া সার্ভিসে ফ্রিল্যান্সাররা কি কমেন্ট করেছে তা জানা জরুরী।

৭) ভালো ক্লায়েন্ট পাওয়ার জন্য রিসার্চ না করা

তারাই হচ্ছেন ভাল ক্লায়েন্ট যারা ফ্রিল্যান্সাররকে সঠিকভাবে কাজ বুঝিয়ে দেন, কাজ নিয়ে ফ্রিল্যান্সারের কোন জিজ্ঞাসা থাকলে তার উত্তর দেন, সার্ভিস ঠিকঠাক বুঝে পেয়ে পেমেন্ট করে দেয়, কাজে সন্তুষ্ট হলে ৫ স্টার রেটিং দেয় এবং অন্য কোন ঝামেলা করেন না। মার্কেটপ্লেসে হাজার হাজার ক্লায়েন্ট আছে কিন্তু সবাই ভাল ক্লায়েন্ট না।

অনেক সময় ক্লায়েন্টরা নানান ধরনের সমস্যা করেন। সার্ভিস নিয়ে পেমেন্ট না করা, ঠিকঠাক কাজ ডেলিভারি দিলেও অযথা কোন পরিবর্তন করতে দেন, এবং ঠিক সময় কাজ সম্পন্ন করে দিলেও খারাপ রেটিং দেয়। এতে ফ্রিল্যান্সারদের মনোবল নষ্ট হয়। তাই ভাল ক্লায়েন্ট পেতে রিসার্চ করা জরুরী। কোন মার্কেটপ্লেসে কোন ক্লায়েন্ট প্রতারণা করলে তা সোশ্যাল মিডিয়া বা ফ্রিল্যান্সারদের কমিউনিটিকে জানানো, প্রতারিত হলে ফ্রিল্যান্সারদের গ্রুপে বিস্তারিত পোস্ট করা যাতে প্রতারক সম্পর্কে জানতে পারে এবং অন্য কেউ  প্রতারণার শিকার না হয়। ফ্রিল্যান্সার নিজে কোন ক্লায়েন্ট থেকে কাজ পেয়ে কাজ শুরুর আগে ক্লায়েন্টের রেটিং , কতবার সার্ভিস নিয়েছেন তা জানা, এবং তার কোন প্রতারণার রেকর্ড আছে কি না তা যাচাই করে কাজ শুরু করা।

আপনি যখন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছেন তখন ছোট ভুল গুলো অনেক সময় অনেক বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। ক্লায়েন্টের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ এবং অন্য ফ্রিল্যান্সারদের সাথে যোগাযোগ রেখে নিজের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। খুব সাবধানে প্রতিটি স্টেপ নিতে হবে যাতে আমরা ভুল এড়িয়ে সফলতার সাথে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারি।

Leave a Reply

Prince Chowdhury

Prince Chowdhury is a Web Designer & Marketing Strategist who is helping Businesses to grow their revenue.

Blog category

Webinar

Learn About Skills Development and Strategy

Popular Post

Workshop

Take Practical Development from Prince Chowdhury