ফাইভারে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ভুল

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগে ভুল পর্ব ৮

ক্লায়েন্ট কি দেখে আপনার গিগে মেসেজ দিবে অথবা ডিরেক্টলি অর্ডার করবে তা জানা সবচেয়ে জরুরী।

আমরা প্রথমেই মনে করি যে আমাদের টাইটেল এবং ইমেজ যদি ফার্স্ট ক্লাস হয় তাহলেই ক্লায়েন্ট পাগল হয়ে যাবে। উরাধুরা ইমেজ তৈরী করে গিগ তৈরি করলেই ক্লায়েন্টের মেসেজ আর মেসেজ পাওয়া যায়।

আর এই ধারণাটা আমাদের 95 শতাংশ এর মধ্যে রয়েছে আর আজকে আমি এই বিষয়টাই ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করব।

কিন্তু তার আগে কিছু Pre-requisite কে বুঝতে হবে তো চলুন বুঝে ফেলি জিনিসগুলো।

আগের পোষ্টে বলেছিলাম যে কিভাবে লো কম্পিটিশন গুলো তৈরি করে কাছে পেতে হয় তাই এখন অনেকেই মনে করছেন যে লো কম্পিটিশন গিগ কিভাবে খুজে পাওয়া যায়?

ফাইবারে লগইন করুন – switch to buyer বাটনে ক্লিক করুন – তারপর সার্চ অপশন পাবেন – আপনার পছন্দের কীবোর্ড লিখে সার্চ করুন – তারপর দেখবেন অনেকগুলো অপশন আছে এবং অপশন এর নিচে লিখা আছে services available.

এটার সাথে যে সংখ্যাটা লিখা আছে সেটা হচ্ছে আপনার কম্পিটিটর এর সংখ্যা। তাই আপনাকে এই কম্পিটিটর অনুযায়ী আপনার সার্ভিসের চাহিদা পরিমাপ করে অথবা হাই কম্পিটিশন গুলো খুজে বের করতে হবে।

আশা করি বুঝতে পেরেছেন কিভাবে লো কম্পিটিশন বুঝা যাবে ফাইবারে।

আরো কিছু বিষয় বোঝার আছে!!

বিষয়গুলো বোঝার জন্য প্রথম যে ব্যাপারটা আপনাকে বুঝতে হবে যে ফ্রিল্যান্সিং একটি চাকরি নয় এটি একটি ব্যবসা এবং প্রতিটি ব্যবসার একটা বেসিক প্রসেস রয়েছে যা সবাইকে মেনে চলতে হয়।

ফাইবারে আমরা এক ধরনের হয়তোবা চাকরি করে থাকি কিন্তু ফাইবার কেউ আমরা ইচ্ছে করলে ব্যবসায় রূপান্তরিত করতে পারি।

এখন ব্যবসা করার কিছু প্রথম বেসিক যে নিয়ম আছে সেগুলো আমরা নামে নেই ফাইবারে ব্যবসা করতে চাই।

প্রথমত আমরা জানি না যে আমরা কি সার্ভিস দিব এবং কেন দিব আর কাকে দিব।

যখন আপনি তিনটি ব্যাপার সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা নিতে পারবেন না তখনই আপনার ঝামেলা শুরু হবে।

ধরুন আপনি একজন ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েব ডিজাইনার, এখন আপনার মাথায় আসতে পারে যেহেতু আমি যেহেতু ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট ডিজাইন করি তাই যে কোন বিজনেস এর জন্যই আমি ওয়েবসাইটের টেক্সট, ইমেজ অথবা ভিডিও দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলতে পারব।

কিন্তু ঠিক এই জায়গাতেই সমস্যা টা শুরু হবে, প্রতিটা ব্যবসার জন্য বিভিন্ন টাইপের ওয়েবসাইট তৈরি করতে হয় এবং প্রতিটি ব্যবসার ধরন আলাদা তাই ওয়েবসাইট এর ধরন আলাদা হবে।

অনেক কিছুই আছে সহজ কিন্তু আপনি বুঝতে পারবেন না যে কোন ওয়েব সাইটে কি ব্যবহার করতে হবে এবং কেন ব্যবহার করতে হবে।

তাছাড়া রয়েছে ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলার একটি ভাষা যে ভাষা বললে সে সহজেই আপনার সবকিছু বুঝে নিতে পারবে।

এখন যখন আপনি ব্যবসার ধরন সম্পর্কে জানবেন না তখনই ক্লায়েন্টের সাথে গোল মাল পাকিয়ে ফেলবেন এবং তার কাছে উল্টোপাল্টা এমাউন্টের সার্ভিস চার্জ চেয়ে বসবেন।

এখন ধরেন যে আপনি একটি স্পেসিফিক ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কাজ করবেন অথবা একটি স্পেসিফিক নিস সিলেক্ট করে কাজ করবেন তাহলে আপনি খুব সহজেই ওই ইন্ডাস্ট্রি অথবা নিস্ সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা নিয়ে।

ধরুন আপনি ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরী করে দিবেন এখন ই-কমার্স ওয়েবসাইট অনেক কিছুর জন্যই মানুষ তৈরি করে দেয় কিন্তু আপনাকে বুঝতে হবে আপনি কাদেরকে কি টাইপ ইকমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করে দিবেন।

ধরুন একজন বিক্রেতা তার একটি দোকান আছে এবং সেই দোকানে এসে টি শার্ট বিক্রি করে তাহলে তার একটি সিঙ্গেল ওয়েবসাইট দরকার যেখানে সে বিষয়গুলো সাজিয়ে ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে টিশার্ট গুলো বিক্রি করবে।

এই টি-শার্ট বিক্রেতা যদি আপনার ক্লায়েন্ট হয় তাহলে আপনি খুব সহজেই একটি ওয়েবসাইট থাকে তৈরি করে দিতে পারবেন এবং বুঝতে পারবেন যে তাকে কি কি ফিচার ওয়েবসাইটে দিতে হবে।

যখন আপনি ওয়েবসাইটের ফিচার সম্পর্কে সকল ধারণা নিয়ে নিবেন তখন প্রতিটি ফিচারের জন্য একটি প্রাইস নির্ধারণ করুন।

এখন সিমিলার ফিচারগুলো একত্রিত করে একটি করে প্যাকেজ আকারে প্রাইস টেবিল তৈরি করুন।

তারপর তিনটি প্যাকেজ কে একত্রিত করে একটি প্যাকেজ তৈরি করুন।

এভাবে দুই থেকে তিনটি প্যাকেজ তৈরি করে ফেলুন প্রাইস রেঞ্জ ধরে ধরে।

তখন আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন যে আপনার ক্লায়েন্টকে আপনি কি সেবা দিবেন এবং এর দাম কত।

এখন ধরেন আপনি ই-কমার্স ব্যবসায়ী দের সাথে কাজ করলেন কিন্তু ওই ব্যবসায়ী হচ্ছে লেবু বিক্রেতা।

এখন তার লেবু দিনে হয়তো বা বিক্রি করে 200 থেকে 300 টাকা আয় হয়।

এই টাইপের ক্লায়েন্টকে হয়তোবা আপনি খুব সহজে বুঝিয়ে ওয়েবসাইট বানাতে পারবেন কিন্তু সে আপনাকে বেশি একটা দাম দিবে না।

সে হয়তো বা 500 থেকে 1000 টাকা খরচ করতে পারে কিন্তু তার থেকে বেশি নয়।

এখন আপনি টি-শার্ট বিক্রেতার জন্য যে ওয়েবসাইটে তৈরি করবেন ঠিক একই ওয়েবসাইট লেবু বিক্রেতার কাছেই বিক্রি করবেন।

দুই জনই সেই বিচার পাবে কিন্তু দুই জনের কাছে দামের পার্থক্য দুই ধরনের।

তাই আমাদের কাছে ক্লায়েন্টরা যখন মেসেজ করে আমরা একজনকে দেখি 500 ডলার বললে লাফিয়ে লাফিয়ে রাজি হয়ে যায় আর আরেকজনকে 50 ডলার বললেও খুশি থাকে না।

এর আরো অনেকগুলো দিক আছে যেগুলো দ্বারা আপনি একজন ক্লায়েন্টের কাছে কত টাকা চাইবেন তা নির্ধারণ করতে পারবেন।

তাই আপনাকে বুঝতে হবে আপনি একজন ক্লায়েন্টকে কি ধরনের ফিচার দিবেন কিভাবে দিবেন এবং কত টাকা দিবেন।

এখন এই ব্যপারগুলো কিভাবে আপনার ফাইবারে কাজে লাগবে?

ক্লায়েন্ট যা দেখে গিগের মধ্যে অর্ডার করে অথবা মেসেজ পাঠায়?

বায়াররা কখনোই টাইটেল অথবা ইমেজ দেখে অর্ডার অথবা মেসেজ দেয় না।

টাইটেল অথবা ইমেজ হচ্ছে বায়ারকে অথবা ক্লায়েন্টকে আপনার গিগটি দেখানোর জন্য ইন্সপায়ার করা।

কিন্তু আপনার ক্লায়েন্ট যখন গিগের মধ্যে প্রবেশ করবে তখন সে যে জিনিসটি লক্ষ্য করবে সেটা হচ্ছে আপনার প্রাইস টেবিল।

একটু আগে আমি ক্লিয়ারলি বুঝেছিলাম যে কেন প্রাইস টেবিল তৈরী করা খুবই জরুরী।

যেকোনো একটি দোকানে মানুষ ঢুকে প্রথমে তার সার্ভিসটা যাচাই করে এবং সে কি কি সুবিধা দিচ্ছে তা দেখে এবং তারপর সেলসম্যানকে জিজ্ঞাসা করে যে এর দাম কত।

যদি দাম ক্লায়েন্টের সুবিধা অনুযায়ী হয় তাহলে ক্লায়েন্ট সেটা কিনে নেয় অথবা দোকান থেকে বের হয়ে যায়।

ফাইবারের ব্যাপারটাও ঠিক এরকম।

যখন আপনি নির্ধারণ করতে পারবেন যে কাকে আপনি আপনার সার্ভিসটি দিবেন ঠিক তখন খুব সহজেই বুঝতে পারবেন যে আপনার প্রাইস রেঞ্জ কেমন হওয়া উচিত।

সেই প্রাইস রেঞ্জ যদি আপনি অন্যদের তুলনায় একটু কম এবং ভালোভাবে ফিচার গুলো দিয়ে বসাতে পারেন তাহলে আপনাকেই ক্লায়েন্ট মেসেজ দিবে অথবা আপনাকে ক্লায়েন্ট অর্ডার করবে।

মূল কথা হচ্ছে কম্পিটিশন চেক করে এমন একটি প্রাইস টেবিল বানানো এটা দেখার পর ক্লায়েন্ট খুশির ঠেলায় আপনাকে মেসেজ দিবে এবং অর্ডার দিয়ে দিবে।

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েব ডিজাইনিং নিয়ে যে ওয়ার্কসপ টি হবে সেটি রেজিস্ট্রেশন এর লাস্ট ডেট আজকে চারটা পর্যন্ত এবং যারা ঢাকায় আছেন তারা রেজিস্ট্রেশন করে ফেলুন এখুনি যেখানে এরকম আরো অনেক বিষয় নিয়ে কথা হবে এবং এমন একটি ডিটেলস থাকবে যেখানে জানতে পারবেন কিভাবে একটি প্রফেশনাল হাই কোয়ালিটি এবং হাই প্রাইস রেঞ্জ এর ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়।

ওয়ার্কসপ রেজিস্ট্রেশনের জন্য “Join” লিখে কমেন্ট করতে পারেন

জি এর মধ্যে কি কি থাকা উচিত এবং কিভাবে একটি গিগ ফিচার দিয়ে গিগ তৈরি করলে ক্লায়েন্ট ইমপ্রেস হয় সেটি নিয়ে কথা বলব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *